লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে ইসরায়েলি বাহিনীর আকস্মিক ও ভয়াবহ হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। এই ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ উপযুক্ত শাস্তি দিতে ইসরায়েলে পাল্টা বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ও যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন,
“ইসরায়েল কেবল শক্তির ভাষা বোঝে। তাদের এই অপরাধের জন্য তেহরান অবশ্যই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।”
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরান ইতোমধ্যেই পাল্টা হামলার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তাদের দাবি, এই যুদ্ধবিরতি পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য ছিল, যা ইসরায়েল একতরফাভাবে ভঙ্গ করেছে।
বৈরুতে ইসরায়েলের তাণ্ডব
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় লেবাননের রাজধানী বৈরুতের জনবহুল বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। লেবানন কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে:
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে হিজবুল্লাহর ১০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। যদিও লেবানন ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো বলছে, এই হামলায় বেসামরিক মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনিশ্চয়তায় যুদ্ধবিরতি
ইসরায়েল দাবি করছে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মতে, শান্তি চুক্তিটি ছিল পুরো অঞ্চলের জন্য। এই দ্বিচারিতার কারণে পুরো পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। বৈরুতের আকাশ এখন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা এই সংঘাতকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা ও ফার্স নিউজ এজেন্সি।