রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০২ অপরাহ্ন
Headline :
সাড়ে ৩ কোটি টাকার রৌমারী হাট ৬ কোটি অতিরিক্ত টোল আদায়ের মরিয়া ইজারাদার নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নোবেল লরিয়েটের অবমাননা: আমাদের রুচিবোধ কোথায় দাঁড়িয়ে? ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানাল আমিরাত সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ল নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত, একটিতে থাকছে সরকারি ছুটি দর্শকদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন তামিম, শুনবেন অভিজ্ঞতা ও সমস্যার কথা আলহাজ্ব আব্দুল ওয়াহাব উচ্চ বিদ্যালয়ে নবীন বরন ও এস এস সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত রৌমারীর সাংবাদিকতায় অনৈক্যের ব্যাধি: ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া… রৌমারী সীমান্তে বিদেশি মদসহ আটক ১

রৌমারীর সাংবাদিকতায় অনৈক্যের ব্যাধি: ঘর হতে দুই পা ফেলিয়া…

ছবিটি প্রতীকী এআই দিয়ে জেনারেট করা।

মোকসেদুল ইসলাম

রৌমারীর সাংবাদিক মহলে একটি প্রচলিত কথা প্রায়ই কানে আসে আর তা হলো, “সাংবাদিকরা একজন আরেকজনের ভালো দেখতে পারেন না।” কথাটি শুনতে অপ্রিয় হলেও, এর শেকড় যে কতটা গভীরে তা বুঝতে আমাদের একটু পেছনে ফিরে তাকাতে হবে।

 

স্মৃতি হাতড়ালে ফিরে যাই ২০০৩-০৪ সালের সেই দিনগুলোতে। সাংবাদিকতায় আমার হাতেখড়ি তখন সবে হয়েছে। তারও আগে ২০০১ সালের শেষের দিকে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম গবেষণা প্রতিষ্ঠান “ম্যাস-লাইন মিডিয়া সেন্টার (MMC)”-এর ফিচার রাইটার হিসেবে কাজ শুরু করি। সেই সময়ে ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক আজকের সত্যের আলো’ এবং জামালপুরের ‘সাপ্তাহিক সচেতন কণ্ঠ’ পত্রিকায় নিয়মিত লিখতাম। আমার সাথে আমার বাল্যবন্ধু রায়হানও তখন সাংবাদিকতায় সক্রিয়।

 

সেই সময় রৌমারীতে প্রেসক্লাব ছিল মাত্র একটি। আমাদের গ্রামেরই বড় ভাই এবং সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম সাজু (সাজু হুজুর) একদিন আমাদের দুজনকে ডেকে রৌমারীতে একটি নতুন সংগঠন ‘রৌমারী সাংবাদিক পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব দেন। উনার আহবানে এবং আরও কয়েকজন মিলে রৌমারী সিজি জামান হাইস্কুলের হলরুমে আমাদের একটি সভা হয় এবং যথারীতি একটি কমিটি গঠন করা হয়।

 

কিন্তু বিপত্তি বাঁধল কমিটি গঠনের খবরটি পত্রিকায় প্রকাশের পর। রৌমারীর তৎকালীন কিছু সিনিয়র সাংবাদিকের মধ্যে এক ধরণের অস্বস্তি বা তথাকথিত ‘চুলকানি’ শুরু হলো। তারা প্রচার করতে লাগলেন, এই সংগঠনের সদস্যদের কাউকে তারা চেনেন না এবং তারা নাকি সাংবাদিকই নন! এমনকি তৎকালীন প্রভাবশালী সাংবাদিক কাইয়ুম আজাদ বাবুলের মাধ্যমে একটি পাল্টা সংবাদও পরিবেশন করা হয়েছিল এই পরিষদের বিরুদ্ধে।

 

এখন প্রশ্ন হলো, কেন আজ এত বছর পর এই স্মৃতির অবতারণা? বর্তমানে রৌমারীর সাংবাদিকতার পরিবেশ দেখলে রীতিমতো আঁতকে উঠতে হয়। ব্যাঙের ছাতার মতো প্রেসক্লাব গড়ে উঠছে সেখানে। বর্তমানে বোধহয় প্রেসক্লাবের সংখ্যা পাঁচটি! সাংবাদিকতার মহান পেশা আজ দলাদলি আর বিভক্তির নোংরা খেলায় মত্ত। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে, অদূর ভবিষ্যতে হয়তো শ্লোগান উঠবে- “ঘরে ঘরে সাংবাদিক, ঘরে ঘরে প্রেসক্লাব”।

 

আমার প্রশ্ন সেই সকল অগ্রজদের কাছে, যারা সেদিন ‘রৌমারী সাংবাদিক পরিষদ’ গঠনের বিরোধিতা করেছিলেন; আপনারা আজ কোথায়? এখন যখন পাড়ায় পাড়ায় প্রেসক্লাব হচ্ছে, তখন কেন আপনারা টু শব্দটিও করছেন না? কেন সকল সাংবাদিককে একই ছাতার নিচে আনতে আপনাদের এই চরম ব্যর্থতা? কোথায় আপনাদের সেই নৈতিক দুর্বলতা?

 

সেদিন যদি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ‘সাংবাদিক পরিষদ’ গঠনের বিরোধিতা না করা হতো, তবে হয়তো আজ রৌমারী থেকে আরও প্রথিতযশা এবং দক্ষ সাংবাদিক বেরিয়ে আসতেন। অনৈক্যের যে বিষবৃক্ষ সেদিন রোপণ করা হয়েছিল, আজ রৌমারীর সাংবাদিকতা সমাজ তারই তিতা ফল ভোগ করছে।

 

রৌমারীর সাংবাদিকতায় যারা নতুন আসছেন, তাদের কাছে আমার অনুরোধ, দলাদলি বা বিভক্তির স্রোতে গা না ভাসিয়ে পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দিন। মনে রাখবেন, কোনো নির্দিষ্ট ক্লাবের পরিচয় আপনাকে বড় সাংবাদিক বানাবে না; বরং আপনার কলমের ধার এবং সত্য প্রকাশের সাহসই আপনাকে পাঠকদের হৃদয়ে বাঁচিয়ে রাখবে। ঐক্যবদ্ধ থেকে এই মহান পেশার মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন আপনাদেরই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page