স্টাফ রিপোর্টার
ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ব্যক্তিগত আক্রোশের জেরে এক সংবাদ কর্মীর জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। দৈনিক ইনকিলাবের রৌমারী প্রতিনিধি রবিউল ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে এলাকার সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ উঠেছে রৌমারী মহিলা কলেজের প্রভাষক আকতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, গত ১০ মার্চ সাংবাদিক রবিউল ইসলাম নয়ন সাধারণ মানুষের কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদ কমিটির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে ফেসবুকে একটি জনসচেতনতামূলক পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি লেখেন:”সমাজ বিরোধী কাজে লিপ্ত, হয়েছে বিশিষ্ট সমাজ সেবক। নামাজ পড়ে না, গান বাজনার সাথে যুক্ত, সে নাকি মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক। বাহ চমৎকার!”
পোস্টটিতে তিনি কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা ব্যক্তির নাম উল্লেখ না করলেও একটি ‘বিশিষ্ট সমাজসেবক’ পদবীর প্রতীকি ছবি যুক্ত করেন। মূলত মসজিদ কমিটির অবক্ষয় নিয়ে সাধারণ মানুষের আক্ষেপ তুলে ধরাই ছিল ওই পোস্টের উদ্দেশ্য।
অভিযোগ উঠেছে, নটান পাড়া গ্রামের মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আকতারুজ্জামান ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে এই পোস্টটিকে নিজের ওপর টেনে নিয়ে এলাকায় অপপ্রচার শুরু করেন। স্থানীয়দের ভুল বুঝিয়ে তিনি সাংবাদিক নয়নের বিরুদ্ধে জনতাকে ক্ষেপিয়ে তোলেন।
এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, গত ৩ মার্চ শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর প্রভাষক আকতারুজ্জামান মুসল্লিদের কাছে নয়নের বিচার দাবি করে বলেন, “নয়ন নটান পাড়া মসজিদ ও কমিটি নিয়ে বাজে মন্তব্য করেছেন।” তার এই বক্তব্যে প্ররোচিত হয়ে স্থানীয় কিছু মানুষকে সাংবাদিক নয়নকে দেখে নেওয়ার হুমকি ও মামলা করার আস্ফালন করতে শোনা যায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক রবিউল ইসলাম নয়ন বলেন, আমি পেশাগত কারণে বিভিন্ন এলাকার মানুষের অভিযোগ শুনি। একজন ব্যক্তির আক্ষেপের প্রেক্ষিতে সমাজের বর্তমান চিত্র তুলে ধরতে আমি পোস্টটি করেছিলাম। সেখানে নটান পাড়া বা নির্দিষ্ট কারো নাম ছিল না। আক্তারুজ্জামান সাহেব ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে সাধারণ মানুষকে আমার বিরুদ্ধে উস্কে দিয়ে আমাকে সামাজিকভাবে হেয় ও শারীরিকভাবে বিপন্ন করার চেষ্টা করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রভাষক আকতারুজ্জামান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আমি কারো কাছে কোনো বিচার দেইনি এবং কাউকে উস্কানিও দেইনি।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একটি সাধারণ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনা বাক স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা।