রৌমারী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের তালিকায় বিএনপি’র নেতাকর্মী ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম থাকার অভিযোগ উঠেছে। তালিকা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। এতে মুখরোচক, ব্যঙ্গাত্বক ও উপহাসমূলকপ্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের তালিকায় বিএনপি নেতা ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম
পোস্ট কমেন্টে ভরে গেছে। পাশাপাশি জামায়াতের তালিকাতেও রয়েছে অবস্থা সম্পন্ন মানুষের নাম। যা জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
এবার ঈদুর ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের জন্য প্রতিজন সংসদ সদস্যকে ১০ লাখ করে টাকা দেয়া হয়। যা দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে ৩ হাজার করে টাকা বিতরণ করার নির্দেশনা আছে। কিন্তু জেলা থেকে বিএনপি’র জন্য ৫ লাখ ও জামায়াত-এনসিপি’র জন্য ৫ লাখ টাকা ভাগাভাগি করা হয়। তাই কুড়িগ্রাম-৪ আসনের ৩টি উপজেলার জামায়াত ও বিএনপি’র নেতাদের নিকট থেকে দুস্থদের নামের তালিকা চাওয়া হয়। প্রাপ্ত তালিকা মতে, রৌমারী উপজেলায় ১৬৭ জন দুস্থের নামের তালিকা জমা করা হয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে।
তালিকায় দেখা যায়, তাঁতী দলের উপজেলা কমিটির সহসভাপতি মোকছেদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দাখিরুল ইসলাম, বিএনপি’র সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক ছফিয়াল হক ওরফে ছবি দেওয়ানী, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলামের নাম তালিকায় সংযুক্ত আছে। এছাড়াও ওই তালিকায় বিএনপি -জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উচ্চবিত্তের নাম রয়েছে। যাদের রয়েছে পাকা বাড়ি, টাইলস করা টয়লেট, কৃষি জমি, ব্যবসাসহ নানাবিধ আয়ের উৎস।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কুটিরচর এলাকার লোকমান হোসেন, আব্দুল আজিজ, কাঁঠালবাড়ির সিরাজুল ইসলাম, বাঘমারার সুমন মিয়া, রৌমারী গ্রামের সাবেক সেনা সদস্য আনোয়ার হোসেনসহ অনেকেই জামায়াত সদস্য। তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল হলেও পেয়েছেন দুস্থ অসহায়ের ৩ হাজার করে টাকা।
জাহাঙ্গীর আলম নামের একজন ফেসবুকে লিখেছেন, বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগ দেয়া সিরাজুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেলেন। অথচ তার বাড়ির পাশে মৃত শুকুর পাগলার স্ত্রী না খেয়ে আছেন, তিনি সে টাকা পেলেন না। হেলাল হিমেল নামে একজন প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, চরশৌলমারী ইউনিয়নের ফুলকারচরের আব্দুল্লাহ নামের একজন টাকা পেয়েছেন। তিনি কি অসহায়? এ পোস্টের কমেন্টে মাহবুবুল আলম ফারুকী লিখেছেন, তার বাড়ির গেটে মিসকিন লিখে দাও। দাঁতভাঙ্গা এলাকার একজন লিখেছেন, আবুল হাসেম নামের যে ব্যক্তি টাকা পেয়েছেন তার রয়েছে গালামালের দোকান ও অনেক আবাদি জমি। তালিকার ১ নম্বরে যার নাম তার নাম মোতালেব হোসেন। তিনি দাঁতভাঙ্গা বাজারে হোটেল ব্যবসা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলাউদ্দিন বলেন, তালিকাগুলো আমি করিনি। জামায়াত, বিএনপি, এনসিপি ও স্থানীয় ইউপি সদস্যরা করেছেন। তাই এ তালিকার ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।
সম্পাদক-01710228816
প্রকাশক- 01710489984,
অফিসের ঠিকানাঃ ২১১/বি, (চতুর্থ তলা) উলন রোড, পশ্চিম রামপুরা, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। প্রকাশক- মোঃ রবিউল ইসলাম, সম্পাদক- মোঃ মোকছেদুল ইসলাম
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬