কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফসলি জমি ও নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। যত্রতত্র ‘ভেকু’ (এক্সকাভেটর) বসিয়ে মাটি বিক্রির এই অবৈধ ব্যবসায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, হুমকিতে পড়ছে আবাদি জমি। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন ও কতিপয় সংবাদকর্মীদের মাসিক মাসোহারার মাধ্যমে ম্যানেজ করে এই রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিন-রাত সমানতালে চলছে মাটি কাটার কাজ। বিশেষ করে দাঁতভাঙ্গা, চর শৌলমারী ও বন্দবেড় ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে ভেকু দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি তোলা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা নিষিদ্ধ হলেও প্রভাবশালী এই চক্রটি সাধারণ কৃষকদের নানা প্রলোভন বা ভয়ভীতি দেখিয়ে ফসলি জমির বুক চিরে মাটি নিয়ে যাচ্ছে। ফলে পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
অবৈধভাবে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ট্রাক্টর (কাঁকড়া)। কাঁকড়া চলাচলের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করতে চাইলেও সিন্ডিকেটের দাপটে তারা মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে বড় অংকের টাকা লেনদেন হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং সাংবাদিক পরিচয়ধারীরা নিয়মিত এই সিন্ডিকেট থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভেকু মালিক জানান, সব জায়গাতেই খরচ দিতে হয়। প্রশাসন থেকে শুরু করে স্থানীয় ‘লাইনম্যান’দের ম্যানেজ করেই আমরা কাজ করছি। ঝামেলা এড়াতে সংবাদকর্মীরাও আমাদের তালিকাভুক্ত।
স্থানীয়দের মতে, এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ও বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে রৌমারীর ভূ-প্রকৃতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তের কারণে বড় ধরনের ভূমিধস এবং আবাদি জমি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান কঠোর। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, জেল জরিমানাও করা হচ্ছে এবং যারা সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছে বা অবৈধ সুবিধা নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্পাদক-01710228816
প্রকাশক- 01710489984,
অফিসের ঠিকানাঃ ২১১/বি, (চতুর্থ তলা) উলন রোড, পশ্চিম রামপুরা, রামপুরা, ঢাকা-১২১৯। প্রকাশক- মোঃ রবিউল ইসলাম, সম্পাদক- মোঃ মোকছেদুল ইসলাম
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬